রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়মিত ৪টি প্রধান আন্তঃনগর ট্রেন যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করে: বনলতা এক্সপ্রেস (সকাল ০৭:০০), সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (সকাল ০৭:৪০), পদ্মা এক্সপ্রেস (বিকেল ০৪:০০), এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেস (রাত ১১:২০)। এছাড়া পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ রুটে চলাচল করে মধুমতি এক্সপ্রেস (সকাল ০৮:০০)। গন্তব্যে পৌঁছাতে ট্রেনের গতি অনুযায়ী সময় লাগে গড়ে ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টা। এই রুটে সাধারণ ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৪০–৩৫০ টাকা এবং স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ক্লাসের ভাড়া ৬৫৬–৬৬০ টাকা। নন-স্টপ বনলতা এক্সপ্রেসে ক্যাটারিং বা খাবার চার্জসহ শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪৩০–৪৫০ টাকা এবং স্নিগ্ধা ৭৮০–৮২০ টাকা। বনলতা এক্সপ্রেস এই রুটের দ্রুততম ও বিরতিহীন ট্রেন।
শিক্ষা ও রেশম নগরী রাজশাহী থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলপথ যাত্রীদের প্রথম ও প্রধান পছন্দ। উত্তরবঙ্গের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ঝুঁকি, ধুলোবালি এবং অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তি এড়াতে সাধারণ যাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং রোগীদের কাছে ট্রেন সবচেয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে সমাদৃত। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্কের অধীনে রাজশাহী থেকে প্রতিদিন একাধিক আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন রাজধানীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ঝামেলামুক্ত যাত্রার জন্য প্রতিটি ট্রেনের সঠিক সময়সূচী, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, স্টেশন বিরতি ও ভাড়ার বিবরণ জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচে রাজশাহী টু ঢাকা রুটের ট্রেনগুলোর পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী, আসনভিত্তিক ভাড়ার তালিকা, টিকিটের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নির্দেশিকা বিস্তারিত দেওয়া হলো।
রাজশাহী টু ঢাকা ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচী
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমলাপুর (ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন)-এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সকল আন্তঃনগর ট্রেনের নির্ধারিত ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় এবং সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | রাজশাহী ছাড়ার সময় | ঢাকা পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধের দিন | রুট / ধরন |
| বনলতা এক্সপ্রেস | ৭৯২ | সকাল ০৭:০০ মি. | সকাল ১১:৩০ মি. | শুক্রবার | বিরতিহীন (নন-স্টপ) |
| সিল্কসিটি এক্সপ্রেস | ৭৫৪ | সকাল ০৭:৪০ মি. | দুপুর ০১:৩০ মি. | রবিবার | সাধারণ আন্তঃনগর |
| পদ্মা এক্সপ্রেস | ৭৬০ | বিকাল ০৪:০০ মি. | রাত ০৯:৪৫ মি. | মঙ্গলবার | সাধারণ আন্তঃনগর |
| ধূমকেতু এক্সপ্রেস | ৭৭০ | রাত ১১:২০ মি. | ভোর ০৪:৫০ মি. | বুধবার | রাতের আন্তঃনগর |
| মধুমতি এক্সপ্রেস | ৭৫৬ | সকাল ০৮:০০ মি. | দুপুর ০৩:০০ মি. | বৃহস্পতিবার | পদ্মা সেতু হয়ে |
(নোট: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অপারেশনাল প্রয়োজন, ক্রসিং বা লাইনের সংস্কার কাজের কারণে শিডিউলে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে। যাত্রার দিন স্টেশনে পৌঁছানোর পূর্বে বা টিকিটে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম।)
প্রতিটি ট্রেনের বিস্তারিত বিবরণ ও ভ্রমণ সুবিধা
রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী প্রতিটি ট্রেনের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ট্রেনগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯২) – দ্রুততম বিরতিহীন সুপারফাস্ট ট্রেন
সবচেয়ে কম সময়ে রাজশাহী থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য বনলতা এক্সপ্রেসের কোনো বিকল্প নেই। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম আধুনিক ও দ্রুতগতির বিরতিহীন (Non-Stop) ট্রেন। ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগৃহীত আধুনিক পিটি ইনকা (PT Inka) বগি দিয়ে পরিচালিত এই ট্রেনে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় স্লাইডিং ডোর, আরামদায়ক রিক্লাইনার সিট এবং পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেট।
- যাত্রাপথের বৈশিষ্ট্য: ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ০৭:০০ টায় ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশন ছাড়া মাঝের কোনো স্টেশনে না থেমে সরাসরি ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে সকাল ১১:৩০ মিনিটে পৌঁছে যায়।
- ভ্রমণ সময়: মাত্র ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
- খাবার সুবিধা: বনলতা এক্সপ্রেসে টিকিটের সাথে সকালের ফ্রেশ নাস্তা ও চা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- কাদের জন্য সেরা: যারা সকালে রওনা হয়ে দুপুরেই ঢাকায় অফিস, জরুরি মিটিং, বিশ্ববিদ্যালয় বা চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ধরতে চান।
২. সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৪) – সকালের আরামদায়ক নিয়মিত সার্ভিস
২০০৩ সালে চালু হওয়া সিল্কসিটি এক্সপ্রেস উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য। এটি রাজশাহী থেকে সকালে ছাড়ার দ্বিতীয় ট্রেন।
- যাত্রাপথের বৈশিষ্ট্য: সকাল ০৭:৪০ মিনিটে রাজশাহী ছাড়ে এবং দুপুর ০১:৩০ মিনিটে ঢাকায় প্রবেশ করে। যাত্রাপথে ঈশ্বরদী বাইপাস, উল্লাপাড়া ও টাঙ্গাইলসহ প্রধান প্রধান স্টপেজে থামে।
- ভ্রমণ সময়: প্রায় ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।
- কাদের জন্য সেরা: পরিবার-পরিজন, বয়োবৃদ্ধ যাত্রী কিংবা যারা খুব ভোরে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা রিল্যাক্সভাবে দিনের বেলা ঢাকায় পৌঁছাতে চান।
৩. পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৬০) – বিকেলের পরিচ্ছন্ন ভ্রমণ
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য পদ্মা এক্সপ্রেস যাত্রীদের সবচেয়ে পছন্দের ট্রেন।
- যাত্রাপথের বৈশিষ্ট্য: রাজশাহী স্টেশন থেকে বিকেল ০৪:০০ টায় ছেড়ে যায় এবং রাত ০৯:৪৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছায়।
- ভ্রমণ সময়: প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
- কাদের জন্য সেরা: যারা সারাদিন রাজশাহীতে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত কাজকর্ম শেষ করে ঢাকায় ফিরতে চান। ঢাকায় পৌঁছে রাতের মধ্যেই নিজ নিজ বাসায় ফিরে যাওয়া যায়।
৪. ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৭০) – রাতের শান্ত ও সময়সাশ্রয়ী যাত্রা
রাতের বেলায় ঘুমাতে ঘুমাতে যাত্রা সম্পন্ন করতে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের জুড়ি নেই। এটি রাতের একমাত্র নিয়মিত আন্তঃনগর সার্ভিস।
- যাত্রাপথের বৈশিষ্ট্য: রাত ১১:২০ মিনিটে রাজশাহী ছাড়ে এবং ভোর ০৪:৫০ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়।
- ভ্রমণ সময়: প্রায় ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
- কাদের জন্য সেরা: শিক্ষার্থী, নিয়োগ পরীক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর। ঢাকায় আলাদা হোটেল ভাড়া করার প্রয়োজন হয় না; ভোরে নেমে সরাসরি পরীক্ষা বা গন্তব্যে চলে যাওয়া সম্ভব।
৫. মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) – পদ্মা সেতু ও দক্ষিণাঞ্চলের বিকল্প রুট
যমুনা সেতুর প্রচলিত রুটের বাইরে দক্ষিণবঙ্গ এবং পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়ার নতুন সংযোগ তৈরি করেছে মধুমতি এক্সপ্রেস।
- যাত্রাপথের বৈশিষ্ট্য: সকাল ০৮:০০ টায় রাজশাহী ছাড়ে এবং ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও পদ্মা সেতু পার হয়ে দুপুর ০৩:০০ টায় ঢাকায় পৌঁছে।
- ভ্রমণ সময়: প্রায় ৭ ঘণ্টা।
- কাদের জন্য সেরা: যাদের গন্তব্য ফরিদপুর, পদ্মা সেতু এলাকা বা দক্ষিণ ঢাকা।
রাজশাহী টু ঢাকা ট্রেনের হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা
বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ নির্ধারিত কিলোমিটারভিত্তিক দূরত্বের কাঠামো অনুযায়ী আসন শ্রেণির ভাড়ার তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো:
| আসন শ্রেণি (Seat Class) | সাধারণ ট্রেন ভাড়া (সিল্কসিটি/পদ্মা/ধূমকেতু) | বনলতা এক্সপ্রেস (খাবার ফি ও ভ্যাটসহ) |
| শোভন চেয়ার (Shovon Chair) | ৩৪০ – ৩৫০ টাকা | ৪৩০ – ৪৫০ টাকা |
| স্নিগ্ধা / এসি চেয়ার (Snigdha) | ৬৫৬ – ৬৬০ টাকা | ৭৮০ – ৮২০ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৭৮২ – ৭৯০ টাকা | প্রযোজ্য নয় |
| এসি বার্থ / কেবিন (AC Berth) | ১১৭৩ – ১২০০ টাকা | প্রযোজ্য নয় |
| নন-এসি ফার্স্ট ক্লাস | ৫০০ – ৫২০ টাকা | প্রযোজ্য নয় |
সার্ভিস চার্জ সম্পর্কিত তথ্য: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে প্রসেসিং ফি বাবদ প্রতি টিকিটে নির্ধারিত ২০ টাকা অনলাইন সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়। কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলে এই বাড়তি চার্জ প্রযোজ্য হয় না।
Also read: ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী
ট্রেনের প্রধান যাত্রাবিরতি ও স্টপেজসমূহ
নন-স্টপ বনলতা এক্সপ্রেস ছাড়া সিল্কসিটি, পদ্মা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে যাত্রীদের সুবিধার্থে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ জংশন ও স্টেশনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের জন্য থামে:
- আব্দুলপুর জংশন: নাটোর জেলার সংযোগ পয়েন্ট, যেখানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন লাইনের ট্রেন ক্রস করে।
- আজিমনগর স্টেশন: স্থানীয় যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ।
- ঈশ্বরদী বাইপাস জংশন: পাবনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রধান রেল ট্রানজিট পয়েন্ট।
- চাটমোহর স্টেশন: পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার যাত্রীদের প্রধান স্টেশন।
- বড়ালব্রিজ স্টেশন: বড়াল নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় যাত্রাবিরতি।
- উল্লাপাড়া স্টেশন: সিরাজগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান স্টেশন।
- জামতৈল ও শহীদ মনসুর আলী স্টেশন: যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।
- বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও পূর্ব জংশন: যমুনা সেতু পারাপারের প্রধান নিয়ন্ত্রক স্টেশন।
- টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন: টাঙ্গাইল জেলা শহরের যাত্রীদের ওঠানামার মূল কেন্দ্র।
- মির্জাপুর স্টেশন: কুমুদিনী হাসপাতাল ও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ।
- জয়দেবপুর জংশন: গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক চাকরিজীবী ও যাত্রীদের নামার প্রধান পয়েন্ট।
- ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন: উত্তরা, টঙ্গী, মিরপুর ও গুলশান এলাকার যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক ড্রপ পয়েন্ট।
- কমলাপুর (ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন): ট্রেনের চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল।
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়মাবলী (Step-by-Step Guide)
বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমানে টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করেছে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন:
- ওয়েবসাইটে প্রবেশ বা অ্যাপ চালু: কম্পিউটার বা মোবাইল ব্রাউজার থেকে
eticket.railway.gov.bdওয়েবসাইটে যান অথবা গুগল প্লে স্টোর থেকে অফিসিয়াল "Rail Sheba" অ্যাপটি ইনস্টল করুন। - অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ও লগইন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট নম্বর এবং সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে পূর্বে তৈরি করা প্রোফাইলে লগইন করুন। নতুন ব্যবহারকারী হলে NID তথ্য দিয়ে ভেরিফাই করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
-
যাত্রার বিস্তারিত নির্বাচন:
-
From:
Rajshahi -
To:
Dhaka(অথবাDhaka Biman Bandar) -
Journey Date: আপনার যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন।
-
Choose Class: আপনার পছন্দ অনুযায়ী
SHOVON CHAIR,SNIGDHAবাAC_BERTHনির্বাচন করুন।
-
- ট্রেন ও আসন নির্বাচন: "Find Ticket" বাটনে ক্লিক করলে রাজশাহী টু ঢাকা রুটের সকল ট্রেনের তালিকা ও সিট খালি থাকার তথ্য দেখতে পাবেন। পছন্দের ট্রেনের "Book Now" অপশনে গিয়ে সিট সিলেক্ট করুন।
- অনলাইন পেমেন্ট: বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় অথবা যেকোনো ব্যাংকের ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- টিকিট সংগ্রহ: পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইলে এবং রেলওয়ে ড্যাশবোর্ডে টিকিটের পিডিএফ চলে আসবে। এটি ডাউনলোড করে ফোনে সংরক্ষণ করুন অথবা প্রিন্ট কপি সাথে রাখুন।
রাজশাহী থেকে ঢাকা ট্রেন ভ্রমণের জরুরি কিছু টিপস
- অগ্রিম টিকিট সংরক্ষণ: রাজশাহী-ঢাকা রুটে সবসময় টিকিটের প্রচুর চাহিদা থাকে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (বৃহস্পতিবার ও শনিবার) টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই যাত্রার ১০ দিন আগে সকাল ০৮:০০ টায় টিকিট ওপেন হওয়ামাত্রই টিকিট বুক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
- স্টেশনে আগে পৌঁছানো: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া নিরাপদ। ট্রেনের বগি নম্বর এবং প্ল্যাটফর্ম নম্বর যাচাই করে নির্দিষ্ট বগির সামনে অবস্থান নিন।
- বিমানবন্দর স্টেশনে নামার সতর্কতা: আপনি যদি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে নামতে চান, তবে ট্রেন জয়দেবপুর পার হওয়ার পর থেকেই প্রস্তুত থাকুন। কারণ বিমানবন্দর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটের বেশি বিরতি দেয় না।
- এনআইডি যাচাই: রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যার নামে টিকিট, তাকে অবশ্যই পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে। ভ্রমণকালীন সময়ে ট্রেনের টিটিই (TTE) টিকিট চেকিংয়ের সময় মূল এনআইডি বা ডিজিটাল কপি প্রদর্শন করতে হতে পারে।
- খাবারের ব্যবস্থা: বনলতা এক্সপ্রেস ছাড়া অন্যান্য ট্রেনে টিকিট মূল্যের সাথে খাবার যুক্ত থাকে না। তবে সব ট্রেনেই প্যান্ট্রি কার (খাবার বগি) রয়েছে, যেখান থেকে চা, কফি, কাটলেট, বিরিয়ানি ও মিনারেল ওয়াটার কিনে খাওয়া যায়।
রাজশাহী থেকে রাজধানী ঢাকা আসার পথে নির্বিঘ্ন, ক্লান্তিহীন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে রেল ভ্রমণ সবচেয়ে সেরা বিকল্প। বিশেষ করে সকালে বনলতা বা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ব্যবহার করলে সারাদিনের সময় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। যাত্রীচাপের কথা মাথায় রেখে ভ্রমণের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার সাথে সাথে অনলাইন পোর্টাল থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত আসনটি বুক করে নিন। সঠিক সময়সূচী জেনে যাত্রা শুরু করুন এবং আপনার ভ্রমণ হোক আনন্দময় ও নিরাপদ।
Comments
No comments yet. Be the first to ask a question or share an update.
Leave a comment
Your mobile number is never published. Comments appear after review. Website links, email addresses and code are not allowed.